লকডাউনে মদের আসর ঠেকাতে ‘গাছ দিদি’
গাছ রক্ষায় তাই এলাকায় প্রচার শুরু করল এলাকার ‘গাছ দিদি’। বহু বছর গ্রামীণ হাওড়ায় বট গাছ বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছেন জয়িতা কুণ্ডু কুন্তি। বহু চেষ্টার পর মহিষরেখার বটচিত্র বদলাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এতদিন ধরে লকডাউনে স্বস্তিতেই ছিলেন। নতুন করে মদের দোকান খোলায় চিন্তিত এই পরিবেশকর্মী। গাছের তলায় মদের আসর রুখতে বেড়িয়ে পড়লেন রাস্তায়। সঙ্গে পেলেন পুলিশ প্রশাসনকেও। দামোদরের তীর। গ্রীষ্মের দুপুরে বটের ‘ছা’।
আর কি ভায়া? চলো তাহলে দু’ পাত্তর হয়েই যাক বলে মদের ঠেক বসত। বহু লড়াই, বহু সচেতনতা প্রচার, নজরদারির পর বন্ধ হয়েছিল এই মদ্যপ কার্যকলাপ। জয়ীতা কুণ্ডু কুন্তি জানাচ্ছেন, ‘লকডাউনে মদের দোকান বন্ধ ছিল। তাই মহিষরেখা অঘোষিত পিকনিক স্পট একেবারে ঝকঝকে ছিল। মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে চন্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে গত দু বছর ধরে এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।
এ বছর বসানো হয়েছে ডাস্টবিন। কাজ হলেও বন্ধ হয়নি প্রকাশ্য মদ্যপান। তা বিষয়টায় লাগাম দেওয়া গিয়েছিল। এবার লকডাউনে মধ্যেই আবার মদের দোকান খোলা হল। আমাদের আশঙ্কা আবারও এই এলাকায় শুরু হবে প্রকাশ্য মদ্যপানের আসর। তাই আগে থেকেই উলুবেড়িয়া থানার মাননীয় আইসি ও চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত প্রধানকে বার্তা পাঠানোর সঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকে এলাকায় পোস্টারিং করলাম।’ প্রসঙ্গত মদের দোকান খোলার জেরে পকেট ভরেছে সরকারের কিন্তু প্রশ্ন তুলে গিয়েছে বহু।
দেশজুড়েই মদের দোকানগুলিতে চলেছে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে পুলিশ। তবুও করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ভুলে সুরাপ্রেমীদের কার্যত মেলা বসেছে কলকাতার পাশাপাশি অন্য এলাকার মদের দোকানের সামনে। হাতে মদের বোতল পেয়ে মদের দোকানের সামনে বসে এক ব্যক্তির মাথা ঠুকে প্রণাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মহিলারা থেকে বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের দেখা গিয়েছে মদের দোকানের।
এক এক জনের মদযুক্তি বিচিত্র ধরনের। কেউ বললেন স্বামীর মাথা ঠাণ্ডা করতে নিজেই মদ কিনতে এসেছেন, কেউ আবার বললেন শরীরের রক্ত স্যানিটাইজ করতেই করোনাকালে মদ্যপানের সিদ্ধান্ত। দেশের রাজধানী দিল্লির চিত্রও একইরকম ছিল। কারও কাতর আকুতি , ‘৪২দিন মদ খাইনি, আজ খেতে দিন’ তো কেউ বললেন , ভোর চারটে থেকে লাইন দিয়েছেন। তাই এই লাইন থেকে তিনি মদ নিয়েই ফিরবেন’। ঠিক সেই সুযোগ দেখেই দিল্লিতে দাম বাড়ানো হয়েছে ৭০ শতাংশ।
তাকেও তোয়াক্কা না করে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের আগে থেকে রাজধানী দিল্লিতে মদের দোকানের সামনে দেখা গিয়েছিল দীর্ঘ লাইন। শয়ে শয়ে মানুষ সামাজিক দূরত্বের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভিড় জমালেন সেখানে। কোথাও কোথাও ভিড় এমনই বেড়ে যায় ও বিশৃঙ্খল চেহারা নেয়, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে আসরে নামতে হয়। পূর্ব দিল্লির কৃষ্ণনগরে একটি দোকানের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জকে অগ্রাহ্য করে প্রায় এক মাইল লম্বা লাইন লেগে গিয়েছিল।
Post a Comment